English | Bangla
সড়ক কেন্দ্রিকতা- দীর্ঘতর মৃত্যুর মিছিল নিরাপদ যাতায়াতে উন্নত রেলকেন্দ্রিক সমন্বিত পরিবহন ব্যবস্থা চাই
সড়কপ্রধান যাতায়াতে দূর্ঘটনায় প্রাণহানিসহ যাত্রী দুর্ভোগের মাধ্যমে পরিবহন ব্যবস্থায় চরম নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে। নিরাপদ, পরিবেশবান্ধব ও আরামদায়ক যাতায়াত মাধ্যম রেলকে উপেক্ষা করে সড়কপথকে প্রাধান্য দেওয়ার এ ধারা এখনি বন্ধ করা না হলে পরিবহন ব্যবস্থায় মহাবিপর্যয় নেমে আসবে। যাতায়াত দুর্ভোগ ও দুর্ঘটনা লাঘবে উন্নত রেলকেন্দ্রিক ও অন্যান্য পরিবহনের সাথে সমন্বিত পরিবহন ব্যবস্থার বিকল্প নেই । গত ৩০ জুলাই ২০১৫, বৃহস্পতিবার, সকাল: ১১ টায় চারুকলা অনুষদের সামনে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা) ও নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ ফোরাম (নাসফ), ডাব্লিউবিবি ট্রাস্ট, আইনের পাঠশালা ও পরিবেশ উন্নয়ন সোসাইটির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধনে উক্ত দাবী জানানো হয়। 
 
পবার চেয়ারম্যান আবু নাসের খানের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন নাসফের সভাপতি হাফিজুর রহমান ময়না, ডাব্লিউবিবির ন্যাশনাল এডভোকেসি অফিসার মারুফ হোসেন, আইনের পাঠশালার সভাপতি সুব্রত দাস খোকন, পরিবেশ উন্নয়ন সোসাইটির সভাপতি বুরহান উদ্দিন আহমেদ, পুরান ঢাকা নাগরিক উদ্যোগের সভাপতি মো: নাজিম উদ্দিন, পবার নির্বাহী সদস্য প্রকৌশলী তোফায়েল আহমেদ, গ্রীণ মাইন্ড সোসাইটির সভাপতি আমির হাসান, বাংলাদেশ পীস মুভমেন্টের সভাপতি অধ্যাপক কামাল আতাউর রহমান প্রমুখ। 
 
বক্তারা বলেন, সড়কপ্রধান যোগাযোগ ব্যবস্থার সম্প্রসারিত নেটওয়ার্ক এখন মৃত্যুজাল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। যোগাযোগের অন্যতম নিরাপদ মাধ্যম রেল ব্যবস্থাকে উপেক্ষা করে সড়ক কেন্দ্রিকতায় যাতায়াত হয়ে উঠছে অনিরাপদ ও বিপজ্জনক। যার পরিণতিতে দূর্ঘটনায় অকাল মৃত্যু ও পঙ্গুত্বের সংখ্যা বাড়ছে। পরিবেশ, অর্থনীতি, রাজনীতি, সংস্কৃতি, শিক্ষা, চিকিৎসাসহ মানব সম্পদের উন্নয়ন তথা দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে উপযোগী পরিবহন ব্যবস্থার গুরুত্ব অপরিসীম। কম খরচে, নিরাপদে, নির্দিষ্ট সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য একটি সুষ্ঠু পরিবহণ ব্যবস্থা মানুষের অধিকার। নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও টেকসই পরিবহন ব্যবস্থা বলতে রেল ও নৌপথ বিশেষ গুরুত্বের দাবী রাখে। কিন্তু স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে এই রেলপথ ও নৌ-পথের জন্য পর্যাপ্ত বিনিয়োগ এবং সঠিক পরিকল্পনা না থাকায় যাতায়াত ব্যবস্থা সড়ককেন্দ্রিক হয়ে পড়ছে। আর সড়কপথকে গুরুত্ব দিয়ে যাতায়াত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ফলস্বরূপ দূর্ঘটনা, দূষণ, জ্বালানি ব্যয়, খরচ, যানজট ও যানজটজনিত সময়ের অপচয়সহ নানারকম সমস্যা বেড়েছে অবিশ্বাস্যভাবে। বায়ু দূষণ, শব্দ দূষণসহ পরিবেশ দূষণ বেড়েছে। এসব দূষণের কারণে শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি, স্ট্রোক, বধিরতাসহ নানা স্বাস্থ্যও সমস্যা বাড়ছে। এবং সড়ক সম্প্রসারণ করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত মূল্যবান ফসলি জমি ধবংস হচ্ছে।
 
এই সৃষ্ট সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে দূরদর্শীতার সঙ্গে নিরাপদ যাতায়াতের একটি সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরী হয়ে পড়েছে। এ প্রেক্ষাপটে আমাদের সুপারিশ: ১. বিদ্যমান সড়ক পথের ত্রুটিপূর্ণ স্থান অবিলম্বে মেরামত করা।
২. নির্বিচারে ড্রাইভিং লাইসেন্স না দেয়া ও দ্রুতগতিতে গাড়ি চালানো নিয়ন্ত্রণ করা
৩. ত্রুটিযুক্ত যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ, মহসড়কে ধীরগতির যানবাহনের অনুপ্রবেশ নিষিদ্ধ করা এবং সড়কে প্রয়োজনীয় সংকেত ও নির্দেশনা সম্বলিত সাইন রাখা। 
৪. দক্ষ ও প্রশিক্ষিত চালক তৈরির জন্য পর্যাপ্ত ইন্সটিটিউশনাল সুবিধার ব্যবস্থা করা।
৫. নিরাপদ ও সাশ্রয়ী বিবেচনায় রেলের উন্নয়নের মাধ্যমে রেলকেন্দ্রিক যাতায়াত নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা। এ জন্য রেললাইন সম্প্রসারণ, রেল লেন বৃদ্ধি, পর্যাপ্ত লোকোমটিভ, যাত্রী কোচ ও মালবাহী ওয়াগন বৃদ্ধিসহ কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
৬. নৌ ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ ও সম্প্রসারণ করা এবং নদীপথের নাব্যতা ঠিক রাখা।
৭. সব ধরনের যানবাহনের ফিটনেস সঠিকভাবে পরীক্ষা করা।
সড়ক কেন্দ্রিকতা- দীর্ঘতর মৃত্যুর মিছিল
নিরাপদ যাতায়াতে উন্নত রেলকেন্দ্রিক সমন্বিত পরিবহন ব্যবস্থা চাই
 
সড়কপ্রধান যাতায়াতে দূর্ঘটনায় প্রাণহানিসহ যাত্রী দুর্ভোগের মাধ্যমে পরিবহন ব্যবস্থায় চরম নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে। নিরাপদ, পরিবেশবান্ধব ও আরামদায়ক যাতায়াত মাধ্যম রেলকে উপেক্ষা করে সড়কপথকে প্রাধান্য দেওয়ার এ ধারা এখনি বন্ধ করা না হলে পরিবহন ব্যবস্থায় মহাবিপর্যয় নেমে আসবে। যাতায়াত দুর্ভোগ ও দুর্ঘটনা লাঘবে উন্নত রেলকেন্দ্রিক ও অন্যান্য পরিবহনের সাথে সমন্বিত পরিবহন ব্যবস্থার বিকল্প নেই । আজ ৩০ জুলাই ২০১৫, বৃহস্পতিবার, সকাল: ১১ টায় চারুকলা অনুষদের সামনে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা) ও নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ ফোরাম (নাসফ), ডাব্লিউবিবি ট্রাস্ট, আইনের পাঠশালা ও পরিবেশ উন্নয়ন সোসাইটির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধনে উক্ত দাবী জানানো হয়। 
 
পবার চেয়ারম্যান আবু নাসের খানের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন নাসফের সভাপতি হাফিজুর রহমান ময়না, ডাব্লিউবিবির ন্যাশনাল এডভোকেসি অফিসার মারুফ হোসেন, আইনের পাঠশালার সভাপতি সুব্রত দাস খোকন, পরিবেশ উন্নয়ন সোসাইটির সভাপতি বুরহান উদ্দিন আহমেদ, পুরান ঢাকা নাগরিক উদ্যোগের সভাপতি মো: নাজিম উদ্দিন, পবার নির্বাহী সদস্য প্রকৌশলী তোফায়েল আহমেদ, গ্রীণ মাইন্ড সোসাইটির সভাপতি আমির হাসান, বাংলাদেশ পীস মুভমেন্টের সভাপতি অধ্যাপক কামাল আতাউর রহমান প্রমুখ। 
 
বক্তারা বলেন, সড়কপ্রধান যোগাযোগ ব্যবস্থার সম্প্রসারিত নেটওয়ার্ক এখন মৃত্যুজাল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। যোগাযোগের অন্যতম নিরাপদ মাধ্যম রেল ব্যবস্থাকে উপেক্ষা করে সড়ক কেন্দ্রিকতায় যাতায়াত হয়ে উঠছে অনিরাপদ ও বিপজ্জনক। যার পরিণতিতে দূর্ঘটনায় অকাল মৃত্যু ও পঙ্গুত্বের সংখ্যা বাড়ছে। পরিবেশ, অর্থনীতি, রাজনীতি, সংস্কৃতি, শিক্ষা, চিকিৎসাসহ মানব সম্পদের উন্নয়ন তথা দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে উপযোগী পরিবহন ব্যবস্থার গুরুত্ব অপরিসীম। কম খরচে, নিরাপদে, নির্দিষ্ট সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য একটি সুষ্ঠু পরিবহণ ব্যবস্থা মানুষের অধিকার। নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও টেকসই পরিবহন ব্যবস্থা বলতে রেল ও নৌপথ বিশেষ গুরুত্বের দাবী রাখে। কিন্তু স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে এই রেলপথ ও নৌ-পথের জন্য পর্যাপ্ত বিনিয়োগ এবং সঠিক পরিকল্পনা না থাকায় যাতায়াত ব্যবস্থা সড়ককেন্দ্রিক হয়ে পড়ছে। আর সড়কপথকে গুরুত্ব দিয়ে যাতায়াত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ফলস্বরূপ দূর্ঘটনা, দূষণ, জ্বালানি ব্যয়, খরচ, যানজট ও যানজটজনিত সময়ের অপচয়সহ নানারকম সমস্যা বেড়েছে অবিশ্বাস্যভাবে। বায়ু দূষণ, শব্দ দূষণসহ পরিবেশ দূষণ বেড়েছে। এসব দূষণের কারণে শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি, স্ট্রোক, বধিরতাসহ নানা স্বাস্থ্যও সমস্যা বাড়ছে। এবং সড়ক সম্প্রসারণ করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত মূল্যবান ফসলি জমি ধবংস হচ্ছে।
 
এই সৃষ্ট সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে দূরদর্শীতার সঙ্গে নিরাপদ যাতায়াতের একটি সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরী হয়ে পড়েছে। এ প্রেক্ষাপটে আমাদের সুপারিশ: ১. বিদ্যমান সড়ক পথের ত্রুটিপূর্ণ স্থান অবিলম্বে মেরামত করা।
২. নির্বিচারে ড্রাইভিং লাইসেন্স না দেয়া ও দ্রুতগতিতে গাড়ি চালানো নিয়ন্ত্রণ করা
৩. ত্রুটিযুক্ত যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ, মহসড়কে ধীরগতির যানবাহনের অনুপ্রবেশ নিষিদ্ধ করা এবং সড়কে প্রয়োজনীয় সংকেত ও নির্দেশনা সম্বলিত সাইন রাখা। 
৪. দক্ষ ও প্রশিক্ষিত চালক তৈরির জন্য পর্যাপ্ত ইন্সটিটিউশনাল সুবিধার ব্যবস্থা করা।
৫. নিরাপদ ও সাশ্রয়ী বিবেচনায় রেলের উন্নয়নের মাধ্যমে রেলকেন্দ্রিক যাতায়াত নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা। এ জন্য রেললাইন সম্প্রসারণ, রেল লেন বৃদ্ধি, পর্যাপ্ত লোকোমটিভ, যাত্রী কোচ ও মালবাহী ওয়াগন বৃদ্ধিসহ কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
৬. নৌ ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ ও সম্প্রসারণ করা এবং নদীপথের নাব্যতা ঠিক রাখা।
৭. সব ধরনের যানবাহনের ফিটনেস সঠিকভাবে পরীক্ষা করা।