English | Bangla
গণপরিবহনকে নারীর জন্য নিরাপদ করার আহ্বান

সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নে শিক্ষা এবং কর্মক্ষেত্রে নারীর পদচারণা বেড়েছে কয়েকগুন। নগরীতে প্রতিদিন কয়েক লাখ নারী স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় এবং কর্মক্ষেত্রে যাতায়াত করেন। অথচ নারীদের কর্মস্থলে বা গন্তব্যে যেতে গণপরিবহনে প্রতিনিয়ত নানা ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। বাসে উঠতে না পারা, নির্দিষ্ট স্থানে না থামা, সিট নেই বলে নারীদের উঠতে না দেয়া, সংরক্ষিত আসনের অপ্রতুলতা এবং বাসে উঠতে গিয়ে প্রতিনিয়ত যৌন নির্যাতনসহ নানারকম হয়রানির সম্মুখীন হচ্ছে নারীরা। এমতবস্থায় গণপরিবহনে নারীদের হয়রানি বন্ধে নগর ও যাতায়াত পরিকল্পনায় নারীদের অংশগ্রহণ এবং আইনের প্রয়োগ ও আচরণের পরিবর্তনে সচেতনতা বৃদ্ধি করা জরুরী।  ৪ মে ২০১৬, বুধবার সকাল ১১.০০ টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে একশন এইড বাংলাদেশ, নারীপক্ষ, পিএসটিসি, আইন ও সালিশ কেন্দ্র, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনির্ভাসিটি, এইড ফাউন্ডেশন, স্বপ্নের সিঁড়ি এবং ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট সম্মিলিত উদ্যোগে আয়োজিত “গণপরিবহনে নারীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দে যাতায়াত নিশ্চিত করণে পদক্ষেপ নিন” - শীর্ষক মানববন্ধনে বক্তরা এ অভিমত ব্যক্ত করেন।
 
মানববন্ধনে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট এর প্রোগ্রাম ম্যানেজার মারুফ হোসেন বলেন, ৪১ শতাংশ নারী যৌন হয়রানির শিকার হন। যৌন হয়রানি এড়াতে ১৩% নারী গণপরিবহন ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকেন। যা নারীদের কর্ম, স্বাস্থ্য এবং শিক্ষার উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। নারীদের এ সমস্যা দূরীকরণে প্রত্যেকেই নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। 
 
সভাপতির বক্তব্যে ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট এর পরিচালক গাউস পিয়ারী বলেন, সার্বিক উন্নয়ন কর্মকান্ডে যথাযথ অংশগ্রহণ নিশ্চিতের জন্য নগরে নারী ও পুরুষ উভয়ের নির্দিষ্ট সময়ে, নিরাপদে, স্বচ্ছন্দে ও সাশ্রয়ীভাবে যাতায়াতের সুবিধা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। অথচ পাবলিক বাসে নারীদের বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। গণপরবিহনে নারী ও শিশুবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির পাশাপাশি হয়রানি বন্ধে আইনের যথাযথ প্রয়োগের ওপর জোর দিতে হবে। 
একশন এইড এর প্রকল্প কো- অডিনেটর গীতা রানী অধিকারী বলেন, গণপরিবহন মানেই হচ্ছে পুরুষ, নারী, শিশু, বৃদ্ধসহ সমাজের সকল মানুষের পরিবহন। অথচ এই গণপরিবহনে নারীরা নানা ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। নারীদের যাতায়াত সমস্যা দূর করতে বাসে সংরক্ষিত আসন বাড়াতে হবে। নাগরিকদের সচেতন হতে হবে। নারীদেরও নিজের অধিকার আদায়ে সচেতন হতে হবে।
 
পপুলেশন সার্ভিসেস এন্ড ট্রেনিং সেন্টারের প্রকল্প কো- অডিনেটর শিরোপা কুলসুম বলেন, গণপরিবহনে নারীর ভোগান্তি লাঘবে পুরুষরা যদি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেন তাহলে নারীদের স্বচ্ছন্দে যাতায়াতের সমস্যা সমাধান করা সম্ভব হবে। পথে যাতায়াতের ক্ষেত্রে নারীদের উত্যক্ত না করা এবং নারীদের কেউ উত্যক্ত করা থেকে উত্যক্তকারীদের নিরুৎসাহিত করতে হবে।  
 
নারীপক্ষের সহ-ব্যবস্থাপক মাকসুদা বেগম বলেন, নারীদের যাতায়াতের ক্ষেত্রে ভোগান্তি দূর করতে গণপরিবহনে নারীদের আগে উঠতে ও নামতে সহযোগিতা, নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসনসহ প্রয়োজনে সাধারণ আসন প্রাপ্তিতে সহযোগিতা করা  এবং বাস চালক এবং হেলপারদের নারী যাত্রীদের সাথে অশোভন আচরণ করা থেকে বিরত রাখার ক্ষেত্রে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। 
ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট এর সহকারি এডভোকেসি অফিসার তানজিলা চৌধুরী এর সঞ্চালনায় মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনির্ভাসিটির টোব্যাকো কন্টোল এর সহকারি গবেষক ফারহানা জামান লিজা, সপ্নের সিঁড়ির নির্বাহী পরিচালক উম্মে সালমা এবং এইড ফাউন্ডেশনের প্রোগ্রাম অফিসার তৌহিদুল্লা প্রমুখ।